প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ এবং চিত্রনায়িকা শাবনূরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে মারার মামলায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) দুপুরে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেসের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বাসের ভেতরে দগ্ধ হয়ে কাজী নাছির (৭০) নামের এক বৃদ্ধ মারা যান, যিনি নিজেকে চিত্রনায়িকা শাবনূরের পিতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।
পরিচয় শনাক্তকরণ: ঘটনার ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম জুতা, ঘড়ি ও বেল্ট দেখে স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন।
মামলা ও আসামি: ওই রাতে পুলিশ ও একজন পরিবহন ব্যবসায়ী পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৪০ জনকে আসামি করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের খালাস প্রদান করেন।
খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলী ও দিনার ছাড়াও রয়েছেন অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ নেতাদের সন্ধান না মিললেও আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নাম এই মামলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ল। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত এবং অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ।
এই রায়টি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বিবর্তনের এক অনন্য নিদর্শন।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থা (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে ব্রিটিশ ভারতে রাজনৈতিক নেতাদের দমনে প্রায়ই এ ধরনের গণমামলা ব্যবহার করা হতো। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালেও অনেক বিপ্লবীর বিরুদ্ধে যড়যন্ত্রমূলক মামলার ইতিহাস রয়েছে। ১৯০০ সালের সেই আমল থেকেই এদেশের মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করে আসছে।
স্বাধীনতা ও আইনি সার্বভৌমত্ব (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ডাক ছিল অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের বিচার বিভাগ পৃথক হলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দায়েরের সংস্কৃতি অনেক সময় বিচারিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করেছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও বিচারিক সংস্কার: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার এক নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই খালাসের রায় সেই সংস্কারমুখী বিচারব্যবস্থারই প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের পরাধীন আমলের বিচার থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক বিচারব্যবস্থায় এখন তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। নিখোঁজ নেতাদের অনুপস্থিতিতেও তাদের নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে সত্যের জয় অনিবার্য।
ইতিহাস সাক্ষী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা শেষ পর্যন্ত সত্যের কাছে হার মানে। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকে ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি যে, বিচার বিভাগ তার স্বচ্ছতা প্রমাণে সচেষ্ট। আইনজীবীরা এই রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৬ সালের এই মে মাসে সিলেটের এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সূত্র: ১. মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেট ও দক্ষিণ সুরমা থানা সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও রায় (১২ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মামলা ও বিচার বিভাগের বিবর্তন (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |